বারোমাসি ফুল গাছ সারা বছর আপনার বাগানে সৌন্দর্য যোগ করতে পারে। এই গাছগুলো শুধুমাত্র ফুল ফোটানোর জন্য জনপ্রিয় নয় বরং কম পরিচর্যার জন্যও আদর্শ। বাংলাদেশে বারোমাসি ফুল গাছের দাম, চাষাবাদ এবং পরিচর্যা নিয়ে জানার আগ্রহ দিন দিন বাড়ছে। আপনার বাড়ি বা বাগানের জন্য সঠিক বারোমাসি গাছ বেছে নেওয়া সহজ যদি আপনি সঠিক তথ্য জানেন।
বারোমাসি ফুল গাছের দাম এবং কেন এগুলো সারা বছর জনপ্রিয়
বারোমাসি ফুল গাছ এমন একটি উদ্ভিদ যা সারা বছর ধরে ফুল ফোটাতে সক্ষম। এই গাছগুলো বাড়ির সৌন্দর্য বাড়াতে এবং বাগানের চাহিদা পূরণে বিশেষ ভূমিকা পালন করে। বাংলাদেশে ফুলপ্রেমীদের মধ্যে এই গাছের চাহিদা দিন দিন বেড়েই চলেছে। মূল কারণ হলো সারা বছর ধরে এই গাছগুলোতে ফুল ফোটে এবং এর রক্ষণাবেক্ষণ তুলনামূলক সহজ।
আরো পড়ুনঃ অর্কিড গাছের দাম কত
বাংলাদেশে বারোমাসি ফুল গাছের দাম
বারোমাসি ফুল গাছের দাম গাছের আকার, প্রজাতি এবং বয়সের উপর নির্ভর করে। সাধারণত চারার দাম ৫০-১০০ টাকা থেকে শুরু হয় এবং বড় আকারের গাছের দাম ৫০০-২০০০ টাকার মধ্যে হতে পারে।
- গোলাপ গাছ: চারা ৮০-১৫০ টাকা, বড় গাছ ৫০০-১০০০ টাকা।
- জবা গাছ: চারা ৬০-১০০ টাকা, পূর্ণবয়স্ক গাছ ৪০০-৮০০ টাকা।
- বাগানবেলি: চারা ৭০-১২০ টাকা, বড় গাছ ৬০০-১৫০০ টাকা।
এগুলো ছাড়াও লতানো এবং ঝোপাল বারোমাসি গাছের দাম তুলনামূলক কম। তবে কিছু বিরল জাতের গাছের দাম আরও বেশি হতে পারে।
জনপ্রিয়তার কারণ
- সৌন্দর্য: বারোমাসি ফুলগাছের মনোমুগ্ধকর রঙ এবং গন্ধ যেকোনো স্থানকে আকর্ষণীয় করে তোলে।
- সহজ রক্ষণাবেক্ষণ: কম পানি এবং সারেই বেশিরভাগ গাছ ভালোভাবে টিকে থাকে।
- অর্থনৈতিক সুবিধা: ফুল বিক্রির মাধ্যমে অনেকেই আয়ের সুযোগ পান।
- পরিবেশগত উপকারিতা: বারোমাসি গাছ বাতাস বিশুদ্ধ করে এবং বাগানের জীববৈচিত্র্য বজায় রাখতে সাহায্য করে।
বারোমাসি ফুল গাছের বৈশিষ্ট্য এবং চাহিদা
বারোমাসি গাছের প্রধান বৈশিষ্ট্য হলো এটি সারা বছর ফুল ফোটাতে সক্ষম। অন্যান্য মৌসুমি গাছের তুলনায় এই গাছগুলো দীর্ঘস্থায়ী এবং টেকসই। বাংলাদেশের আবহাওয়ায় এ ধরনের গাছ খুব ভালোভাবে মানিয়ে যায়।
বৈশিষ্ট্যসমূহ
- ফুল ফোটার ধারাবাহিকতা: বারোমাসি গাছগুলোতে সারা বছর ফুল ফোটে।
- প্রজাতিগত বৈচিত্র্য: লতানো, ঝোপাল এবং সোজা দণ্ডযুক্ত গাছ পাওয়া যায়।
- সহজ রক্ষণাবেক্ষণ: নিয়মিত পানি এবং মাঝেমধ্যে সার প্রয়োগেই এই গাছ ভালোভাবে বেড়ে ওঠে।
- আবহাওয়ার সঙ্গে খাপ খাওয়ানো: বারোমাসি গাছগুলো উষ্ণ এবং আর্দ্র আবহাওয়ায় সহজেই মানিয়ে যায়।
বাংলাদেশে চাহিদা
বাংলাদেশে বাগানপ্রেমীদের মধ্যে বারোমাসি ফুল গাছের চাহিদা অনেক বেশি। কারণ এগুলোতে বিনিয়োগ করলে দীর্ঘমেয়াদে বাড়ির সৌন্দর্য এবং বাগানের উৎপাদনশীলতা বজায় থাকে। বিশেষ করে শহরের ছাদ বাগান ও গ্রামীণ বাড়ির উঠানে এই গাছগুলো জনপ্রিয়।
বারোমাসি ফুল গাছের প্রজাতি ও দাম
- গোলাপ (Rose): সারা বছর রঙিন ফুল ধরে। চারা দাম ১০০-১৫০ টাকা।
- জবা (Hibiscus): বিভিন্ন রঙে পাওয়া যায়। চারা দাম ৬০-৮০ টাকা।
- কৃষ্ণচূড়া: দাম ১৫০-২৫০ টাকা।
- মাধবীলতা (Creeper): লতানো গাছের তালিকায় শীর্ষে। চারা দাম ৫০-১০০ টাকা।
সারা বছর ফোটা জনপ্রিয় বারোমাসি ফুল গাছের তালিকা
বারোমাসি ফুল গাছের তালিকা বেশ দীর্ঘ। তবে বাংলাদেশে বিশেষ কিছু গাছ খুবই জনপ্রিয় এবং সহজলভ্য। এগুলো বাড়ি, ছাদ, বাগান এবং অন্যান্য স্থানে লাগানোর জন্য আদর্শ।
জনপ্রিয় বারোমাসি ফুল গাছ
গোলাপ (Rose):
- সারা বছর ফোটা ফুলের মধ্যে এটি সবচেয়ে জনপ্রিয়।
- বিভিন্ন রঙের গোলাপ পাওয়া যায় যেমন লাল, সাদা, হলুদ এবং গোলাপি।
- দাম: চারা ১০০-১৫০ টাকা, বড় গাছ ৫০০-১০০০ টাকা।
জবা (Hibiscus):
- লাল, সাদা এবং হলুদ রঙে পাওয়া যায়।
- এই গাছের ফুল বিভিন্ন ধর্মীয় ও সামাজিক অনুষ্ঠানে ব্যবহৃত হয়।
- দাম: চারা ৫০-৮০ টাকা।
বাগানবেলি (Bougainvillea):
- এটি একটি লতানো গাছ যা দারুণ দ্রুত বৃদ্ধি পায়।
- নানা রঙের ফুল দেখতে পাওয়া যায়।
- দাম: চারা ৭০-১২০ টাকা, বড় গাছ ৬০০-১৫০০ টাকা।
সূর্যমুখী (Sunflower):
- উজ্জ্বল হলুদ ফুল গাছকে আকর্ষণীয় করে তোলে।
- দাম: চারা ৫০-১০০ টাকা।
কাঞ্চন (Bauhinia):
- সুন্দর পাতা এবং দৃষ্টিনন্দন ফুলের জন্য পরিচিত।
- দাম: ১০০-২০০ টাকা।
অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ গাছ
- ডালিয়া (Dahlia): চারা দাম ৬০-১০০ টাকা।
- গাঁদা (Marigold): চারা দাম ৫০-৮০ টাকা।
- চন্দ্রমল্লিকা (Chrysanthemum): চারা দাম ৭০-১২০ টাকা।
বারোমাসি ফুল গাছের দাম কীভাবে নির্ধারণ হয়
বারোমাসি ফুল গাছের দাম নির্ভর করে বিভিন্ন বিষয়ের উপর। গাছের ধরণ, প্রজাতি, আকার এবং বয়স দামের ক্ষেত্রে প্রভাব ফেলে। বাংলাদেশে এই গাছের দাম স্থানভেদে এবং মৌসুমভেদে পরিবর্তিত হতে পারে।
দাম নির্ধারণে প্রভাব ফেলে যে বিষয়গুলো
গাছের আকার ও বয়স:
- ছোট চারাগাছের দাম তুলনামূলক কম।
- বড় এবং ফুল ফোটা অবস্থায় থাকা গাছের দাম বেশি।
- উদাহরণ: গোলাপ চারার দাম ১০০-১৫০ টাকা কিন্তু পূর্ণবয়স্ক গাছের দাম ৫০০-১০০০ টাকা।
প্রজাতি:
- বিরল প্রজাতির গাছের দাম সাধারণত বেশি।
- স্থানীয় জাতের গাছের দাম তুলনামূলক কম।
কেনাকাটার স্থান:
- নার্সারিতে গাছ কিনলে দাম কম হয়।
- অনলাইন প্ল্যাটফর্মে অনেক সময় পরিবহন খরচ যোগ হওয়ায় দাম বাড়ে।
মৌসুম:
- বসন্ত ও গ্রীষ্মকালে গাছের চাহিদা বেশি থাকায় দাম বাড়ে।
- বর্ষাকালে দাম কিছুটা কমতে পারে।
বারোমাসি ফুল গাছের গড় দাম
- স্থানীয় নার্সারি: চারা ৫০-১০০ টাকা।
- অনলাইন প্ল্যাটফর্ম: গাছের আকারভেদে ১০০-২০০০ টাকা।
- বিরল জাত: ১০০০-৫০০০ টাকা পর্যন্ত হতে পারে।
সেরা লতানো বারোমাসি ফুল গাছ এবং তাদের দাম
লতানো বারোমাসি ফুল গাছ বাগান বা বাড়ির দেয়াল সাজানোর জন্য এককথায় অনন্য। বাংলাদেশে এসব গাছ খুব জনপ্রিয় কারণ এগুলো দ্রুত বৃদ্ধি পায় এবং খুব বেশি যত্ন ছাড়াই সুন্দর ফুল ফোটায়। এই গাছগুলো জায়গার সঠিক ব্যবহার নিশ্চিত করে এবং সৌন্দর্য বাড়ায়।
আরো পড়ুনঃ বাগান বিলাস গাছের দাম
লতানো বারোমাসি ফুল গাছের তালিকা ও বৈশিষ্ট্য
বাগানবেলি (Bougainvillea):
- বিভিন্ন রঙে পাওয়া যায় যেমন গোলাপি, লাল, হলুদ।
- খুব দ্রুত বৃদ্ধি পায় এবং কম যত্নে সারা বছর ফুল ফোটায়।
- দাম: চারা ৭০-১২০ টাকা, বড় গাছ ৬০০-১৫০০ টাকা।
মাধবীলতা (Rangoon Creeper):
- এটি সারা বছর ফুল ফোটায় এবং ফুলের মিষ্টি গন্ধ বাগানে প্রাণ এনে দেয়।
- দাম: চারা ৫০-১০০ টাকা।
আলোচনা (Morning Glory):
- সকালে ফুটে এবং দিনের বেলায় ঝরে যায়।
- নীল, গোলাপি এবং সাদা রঙের ফুল পাওয়া যায়।
- দাম: চারা ৫০-৮০ টাকা।
হানিসাকল (Honeysuckle):
- ছোট লতানো গাছ যা দেয়ালে বা ফ্রেমে লাগানোর জন্য আদর্শ।
- মিষ্টি গন্ধযুক্ত ফুল।
- দাম: চারা ১০০-২০০ টাকা।
লতানো গাছের উপকারিতা
- স্থানের ব্যবহার: বাড়ির দেয়াল বা ছাদে সহজেই লাগানো যায়।
- সৌন্দর্য: জায়গাকে আরও আকর্ষণীয় এবং প্রাকৃতিক করে তোলে।
- পরিবেশগত প্রভাব: গাছগুলো ছায়া দেয় এবং বাতাস শীতল রাখতে সাহায্য করে।
লতানো গাছগুলোর পরিচর্যা খুব সহজ। নিয়মিত পানি এবং মাঝে মাঝে সার প্রয়োগ করলেই এগুলো ভালোভাবে বেড়ে ওঠে।
বারোমাসি ফুল গাছ কেনার স্থান ও প্রক্রিয়া
বাংলাদেশে বারোমাসি ফুল গাছ কেনার জন্য বিভিন্ন উৎস রয়েছে। এগুলো স্থানীয় নার্সারি থেকে শুরু করে অনলাইন প্ল্যাটফর্ম পর্যন্ত বিস্তৃত। যেখান থেকেই কিনুন না কেন সঠিক জায়গা থেকে গাছ কেনা গুরুত্বপূর্ণ।
বারোমাসি ফুল গাছ কেনার স্থান
স্থানীয় নার্সারি:
- নার্সারি থেকে গাছ কেনা সাশ্রয়ী এবং নির্ভরযোগ্য।
- উদাহরণ: ঢাকা, চট্টগ্রাম, রাজশাহী এবং সিলেটের বিভিন্ন নার্সারিতে সেরা মানের গাছ পাওয়া যায়।
অনলাইন প্ল্যাটফর্ম:
- কিছু জনপ্রিয় প্ল্যাটফর্ম যেমন Chardike.com বা AgroMart Bangladesh।
- এগুলোতে গাছের বিভিন্ন প্রজাতি এবং দাম সহজেই তুলনা করা যায়।
গাছ কেনার প্রক্রিয়া
- গাছের স্বাস্থ্য পরীক্ষা করুন।
- পাতার রং, ডালপালা শক্তিশালী কিনা দেখুন।
- চারার দাম এবং পরিপূর্ণ গাছের দাম তুলনা করে সিদ্ধান্ত নিন।
দামের পার্থক্য
- নার্সারি: ৫০-২০০০ টাকা।
- অনলাইন: ১০০-৩০০০ টাকা।
অনলাইন প্ল্যাটফর্মে ক্রয় করলে পরিবহন খরচ যুক্ত হয় তবে বিরল প্রজাতি সহজে পাওয়া যায়। নার্সারিতে সরাসরি যাচাই করে কেনার সুবিধা বেশি।
বারোমাসি ফুল গাছের পরিচর্যা
বারোমাসি ফুল গাছের দীর্ঘস্থায়ী স্বাস্থ্য এবং সারা বছর ফুল ফোটানোর জন্য সঠিক পরিচর্যা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এগুলোর জন্য অত্যধিক সময় বা শ্রমের প্রয়োজন হয় না তবে কয়েকটি মূল বিষয় মেনে চললে গাছগুলো সুন্দরভাবে বেড়ে ওঠে।
প্রাথমিক পরিচর্যা টিপস
পানি দেওয়া:
- প্রতিদিন সকালে বা বিকালে গাছের গোড়ায় পানি দিন।
- গাছের প্রজাতি অনুযায়ী পানি দেওয়ার পরিমাণ ঠিক করুন।
সার প্রয়োগ:
- জৈব সার (কম্পোস্ট) প্রতি মাসে একবার প্রয়োগ করুন।
- রাসায়নিক সার প্রয়োগের আগে পরিমাণ যাচাই করুন।
রোগ ও পোকামাকড় প্রতিরোধ
- সাধারণ সমস্যা: পাতা পচা, ফুল শুকিয়ে যাওয়া।
- সমাধান: নিয়মিত কীটনাশক ব্যবহার এবং পরিষ্কার পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখা।
আলো এবং ছায়া ব্যবস্থাপনা
- বারোমাসি গাছগুলো সাধারণত পর্যাপ্ত সূর্যের আলো পছন্দ করে।
- ছায়াযুক্ত স্থানে গাছ রাখলে ফুল ফোটার হার কমে যেতে পারে।
ছাঁটাই (Pruning):
- ফুল ফোটার পরপরই গাছ ছাঁটাই করলে এটি নতুন শাখা তৈরি করে এবং আরও বেশি ফুল ফোটায়।
- নিয়মিত পরিচর্যা না করলে বারোমাসি গাছের কার্যকারিতা কমে যেতে পারে। তবে সঠিক ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করলে এগুলো বছরজুড়ে বাগানের সৌন্দর্য ধরে রাখবে।
সারা বছর ফোটা ফুল গাছ কেনার সুবিধা
বারোমাসি ফুল গাছ কেনার প্রধান সুবিধা হলো এগুলো সারা বছর সৌন্দর্য ধরে রাখে। মৌসুমি গাছের তুলনায় বারোমাসি গাছ দীর্ঘস্থায়ী এবং অর্থনৈতিকভাবে লাভজনক।
সৌন্দর্য এবং নান্দনিকতা
- বারোমাসি ফুল গাছ বাড়ির পরিবেশকে শুধু নান্দনিকভাবে আকর্ষণীয় করে তোলে না এটি একটি শৈল্পিক প্রভাব ফেলে।
- বাড়ির সৌন্দর্য: বাগান, ছাদ বা বারান্দায় রঙিন ফুল সবার নজর কাড়ে।
- উৎসব এবং সামাজিক অনুষ্ঠান: বারোমাসি ফুল বিভিন্ন উৎসবে ব্যবহার করা যায় যেমন বিবাহ বা পারিবারিক অনুষ্ঠানে।
অর্থনৈতিক সুবিধা
- বারোমাসি গাছ থেকে সারা বছর ফুল পাওয়া যায় যা বিক্রির মাধ্যমে আয় বাড়াতে সাহায্য করে।
- এগুলো একবার কিনলে দীর্ঘদিন পর্যন্ত রক্ষণাবেক্ষণ খরচ কম থাকে।
পরিবেশগত প্রভাব
- এই গাছগুলো বায়ু বিশুদ্ধকরণে সাহায্য করে।
- পতঙ্গ এবং পাখিদের আকৃষ্ট করে পরিবেশগত ভারসাম্য বজায় রাখে।
দাম অনুযায়ী সুবিধা
- বারোমাসি গাছ কিনতে একটু বেশি খরচ হলেও দীর্ঘমেয়াদে এটি সাশ্রয়ী।
- উদাহরণ: গোলাপ বা বাগানবেলি গাছ যা সারা বছর ফুল দেয়।
সারা বছর ফুল ফোটানো গাছ কেনার ফলে শুধু সৌন্দর্য বৃদ্ধি পায় না এটি আর্থিক এবং পরিবেশগত উপকারিতাও নিশ্চিত করে।
বারোমাসি ফুল গাছের বৈশিষ্ট্য এবং অন্যান্য গাছের সঙ্গে পার্থক্য
বারোমাসি ফুল গাছের অন্যতম বিশেষ বৈশিষ্ট্য হলো সারা বছর ধরে ফুল ফোটানো। এটি সাধারণত মৌসুমি গাছের তুলনায় বেশি কার্যকর এবং দীর্ঘস্থায়ী। অন্যান্য গাছের তুলনায় এগুলোর কিছু নির্দিষ্ট সুবিধা রয়েছে যা বাগানপ্রেমীদের কাছে এই গাছগুলোকে আরও আকর্ষণীয় করে তোলে।
বিশেষ বৈশিষ্ট্য
- দীর্ঘস্থায়ী ফুল ফোটা: বারোমাসি গাছ সারা বছর ফুল দেয়। তাই ঋতুভেদে বাগান কখনো নির্জন হয় না।
- সহজ পরিচর্যা: এই গাছগুলো খুব বেশি যত্ন ছাড়াই সুস্থভাবে বেড়ে ওঠে।
- বৈচিত্র্যময়তা: বিভিন্ন রঙ এবং আকারে পাওয়া যায় যা বাড়ির পরিবেশকে নান্দনিকভাবে সমৃদ্ধ করে।
অন্যান্য গাছের সঙ্গে পার্থক্য
মৌসুমি গাছ:
- কেবল নির্দিষ্ট ঋতুতে ফুল ফোটে।
- পরিচর্যার ক্ষেত্রে তুলনামূলক বেশি সময় এবং শ্রম প্রয়োজন।
বারোমাসি গাছ:
- বছরে বারো মাসই ফুল ফোটে।
- বারবার নতুন করে গাছ লাগানোর প্রয়োজন হয় না।
এই গাছগুলোর একটি বিশেষ গুণ হলো এগুলো শুধুমাত্র পরিবেশের সৌন্দর্য বৃদ্ধি করে না বরং বাগান তৈরি করার সময় এবং খরচও বাঁচায়।
বাণিজ্যিকভাবে বারোমাসি ফুল গাছের চাষাবাদ
বাংলাদেশে বাণিজ্যিকভাবে বারোমাসি ফুল গাছ চাষ করে আর্থিকভাবে লাভবান হওয়া সম্ভব। দিন দিন ফুলের চাহিদা বাড়ছে বিশেষ করে বিবাহ, সামাজিক অনুষ্ঠান এবং বিভিন্ন উৎসবে। ফলে বাণিজ্যিকভাবে এই গাছ চাষাবাদ একটি লাভজনক উদ্যোগ হয়ে উঠেছে।
চাষাবাদের উপযুক্ত পরিবেশ
বারোমাসি গাছ চাষের জন্য উর্বর মাটি, পর্যাপ্ত সূর্যের আলো এবং নিয়মিত পানির প্রয়োজন। বাংলাদেশের জলবায়ু এই গাছের জন্য আদর্শ।
- মাটি: বেলে-দোআঁশ মাটি সবচেয়ে উপযুক্ত।
- আলো: গাছগুলো দিনের বেশিরভাগ সময় সূর্যের আলো পেলে ভালো ফলন দেয়।
বাণিজ্যিক লাভের সম্ভাবনা
ফুল বিক্রি:
- বারোমাসি ফুল সরাসরি স্থানীয় বাজারে বিক্রি করা যায়।
- প্রতি কেজি ফুলের দাম ১০০-৩০০ টাকার মধ্যে।
চারা বিক্রি:
- চারা বিক্রি করেও সহজে আয় করা যায়।
- জনপ্রিয় চারাগুলোর দাম ৫০-২০০ টাকা।
প্রতিযোগিতা এবং সম্ভাবনা
বাণিজ্যিকভাবে বারোমাসি গাছের চাষ একটি উদীয়মান ক্ষেত্র। কম পুঁজি দিয়ে শুরু করা সম্ভব এবং চাহিদা নির্ভর করে বাজার সম্প্রসারণ সহজ।
বারোমাসি ফুল গাছের ভবিষ্যৎ সম্ভাবনা
বারোমাসি ফুল গাছের ভবিষ্যৎ সম্ভাবনা বাংলাদেশে অত্যন্ত উজ্জ্বল। বাড়ির বাগান থেকে শুরু করে শিল্পকারখানার সৌন্দর্যায়ন পর্যন্ত বিভিন্ন ক্ষেত্রে এর প্রয়োগ বাড়ছে। মানুষ এখন সৌন্দর্য ও পরিবেশবান্ধব সমাধানের দিকে বেশি আগ্রহী।
পরিবেশগত উপকারিতা
বারোমাসি গাছ পরিবেশের জন্য খুবই উপকারী। এটি বাতাসকে বিশুদ্ধ করে, গরমের সময় ছায়া দেয় এবং শহুরে এলাকাগুলোর তাপমাত্রা হ্রাস করে।
- বায়ু দূষণ কমানো: এই গাছগুলো বায়ু থেকে কার্বন ডাই অক্সাইড শোষণ করে।
- পতঙ্গ এবং পাখি আকর্ষণ: ফুলগুলো প্রাকৃতিক পরিবেশ তৈরি করতে সাহায্য করে।
ব্যক্তিগত এবং বাণিজ্যিক ক্ষেত্রে চাহিদা বৃদ্ধি
মানুষের মাঝে বারোমাসি গাছের জনপ্রিয়তা দিন দিন বাড়ছে। বাড়ির বাগান এবং ছাদবাগানে এর ব্যবহার বহুগুণ বেড়েছে। এছাড়া হোটেল, রেস্টুরেন্ট এবং অফিস ভবনের সৌন্দর্যায়নে এই গাছগুলো ব্যাপকভাবে ব্যবহৃত হচ্ছে।
আরো পড়ুনঃ লাল মনসা গাছের দাম কত
বিনিয়োগের সুযোগ
এই খাতে বিনিয়োগ করলে ভবিষ্যতে ভালো আয়ের সম্ভাবনা রয়েছে। নার্সারি ব্যবসা, ফুল বিক্রয় এবং অনলাইন প্ল্যাটফর্মে গাছ বিক্রির মাধ্যমে আয়ের পথ তৈরি করা সম্ভব।
উপসংহার
বারোমাসি ফুল গাছ সারা বছর সৌন্দর্য ও আনন্দ দেয় যা বাড়ি ও বাগানের জন্য একটি চমৎকার পছন্দ। বাংলাদেশে এই গাছগুলোর চাহিদা এবং উপযোগিতা ক্রমাগত বাড়ছে। এই গাছগুলো শুধু ব্যক্তিগত সৌন্দর্যচর্চার জন্য নয় বরং বাণিজ্যিকভাবে একটি লাভজনক ক্ষেত্র।
বারোমাসি ফুল গাছ সারা বছর কেনা যায় তবে বর্ষাকাল বা শীতের শুরুর সময় নতুন গাছ লাগানোর জন্য সেরা সময়। এই সময় গাছ সহজেই শিকড় মাটিতে স্থাপন করে এবং দ্রুত বেড়ে ওঠে।
আপনার বাড়ি বা বাগান সাজানোর জন্য আজই একটি বারোমাসি গাছ কিনুন। অনলাইনে কিনতে পারেন বা কাছের নার্সারিতে গিয়ে সঠিক গাছ নির্বাচন করুন। আপনি যদি বাণিজ্যিকভাবে চাষ করতে চান তবে সঠিক পরিকল্পনা এবং পরিচর্যার মাধ্যমে এটি একটি লাভজনক উদ্যোগে পরিণত হতে পারে।